ঠিকানা
আজ ছত্রিশ সপ্তাহ ধরে নিজেকে খুঁজছি –
পুরনো পলেস্তারা খসা গ্রাফিতির দেয়ালে,
কখনো প্রাচীরের ওপর জন্মানো
নরম নাজুক সবুজ আগাছায়।
খুৃৃঁজেছি, কার্জন টিএসসি, শাহবাগ
আর আজিমপুরে- প্রতিদিনের ফুটপথে।
ক্ষণিকা,চৈতালী, বসন্ত,আর সব লাল বাসের গন্তব্যে গিয়েও, কাঙ্ক্ষিত সে ঠিকানা আমি পাইনি।
তারপর ভীষন অভাববোধ আর অন্তরের ক্ষুধা নিয়ে
স্রষ্টার দরবারে ভিখ মেনেছি বহুবার।
কদিন বাদে সুস্থ স্বচ্ছল হলে, নেমকহারামের পরিচয় দিয়ে দরবারে ইস্তফা দেওয়ার নজির রয়েছে হাজারো।
এখন বছর শেষে উদভ্রান্ত, উশৃংখল- উল্লাসে আত্মপরিচয় ভুলে আমি তাঁকে খুঁজে পেয়েছি- আবর্জনা থেকে কুড়িয়ে খাওয়া খাবারের গন্ধে।
ক্ষুধা, স্বপ্ন আর সভ্যতার লোভে গলির মধ্যে প্রসারিত হওয়া ছিনতাইকারীর হাতে,
কখনো ট্রেনের ছাঁদে চড়ে চট্টগ্রামে যাওয়া ফাতেমার দুঃসাহসে।
খুঁজে পেয়েছি চাঁদের আলো ঝরা পঙ্কিল রাতে, রমনা পরিবাগের রাস্তায়।
স্বামী সন্তানের অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত শাকিলা বেগমের ঝুপড়ি তে।
এখন দিন-মান, কাল-ক্ষণ ভুলে,
সূর্যলোকে রাত তাড়িয়ে বিশাল ক্লান্ত আমি,
তাই শান্ত পরানে অবিবেচক এর মত ভুলে গিয়েছি আত্মপরিচয়। চিনেছি কবির কতক চরিত্রকে, আর উদ্ধারে আছি আরও শত সহস্রের।
~ ঠিকানা
রাত ১.৩০
রোকেয়া হল
