সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর নয়।

Author

Mohammad Nahidul Islam , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ পাঠ: ৮৩ বার

যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়

– মুহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবসায়িক দোকান নয়। অথচ আমাদের দেশে বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক জায়গায় মাদ্রাসা বা কিন্ডারগার্টেন এর মতো স্কুল গড়ে ওঠে আয়ের হিসাব কষে। যোগ্য শিক্ষক আছেন কি না, শিক্ষার্থীদের আবাসন নিরাপদ কি না, কেউ তদারকি করছে কি না, এসব প্রশ্ন সেখানে ওঠে অনেক পরে, কখনো কখনো ওঠেই না। কথাটা ধর্মীয় বনাম সাধারণ শিক্ষার নয়। প্রশ্ন একটাই- যে প্রতিষ্ঠান শিশুর জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে, তার ন্যূনতম মান কে নিশ্চিত করবে বা করছে?

গত কয়েক সপ্তাহের চলমান ইস্যু নিয়ে সংবাদপত্রের পাতাগুলো এর উত্তর দিয়ে দেয়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১৭ বছরের এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। কয়েক দিন পরে নড়াইলে ছয় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে আরেক শিক্ষক গ্রেপ্তার হন। একজনের ঘটনা জানাজানি হতেই আরও পাঁচজন একই অভিযোগ তোলে। অক্টোবরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ১৩ বছরের এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, কোরআন শেখানোর কথা বলে ছেলেটিকে নিজের কক্ষে নেওয়া হয়েছিল। একই থানা এলাকায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগে আরেক মাদ্রাসা শিক্ষক এখন কারাগারে। গত শুক্রবার পাবনায় আবাসিক মাদ্রাসায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর ক্ষুব্ধ লোকজন মাদ্রাসায় আগুন ধরিয়ে দেয়। সাতক্ষীরার আশাশুনিতেও একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। জুনে ময়মনসিংহের তারাকান্দায় অভিযোগ উঠেছিল, ঈদের ছুটিতে অন্য ছাত্রদের বাড়ি পাঠিয়ে ১০ বছরের এক শিশুকে মাদ্রাসায় রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।

এগুলো অভিযোগ ও গ্রেপ্তারের খবর। আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কেউ দোষী নন, এ কথা মনে রাখতেই হবে। তবু ঘটনার এই ধারাবাহিকতা এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আবাসিক বা নিভৃত পরিবেশ উপেক্ষা করার মতো নয়।

আবাসিক মাদ্রাসায় শিশু দিনরাত শিক্ষকের অধীনে থাকে। তাদের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা হতদরিদ্র ও অসহায়। লোকলজ্জার ভয় ঘটনা প্রকাশ না করার অন্যতম একটি কারণ। এই নীরবতার সুযোগেই অপরাধীরা টিকে থাকছে দিনের পর দিন। এ ধরণের ঘটনায় শিশুর শরীরিক অবনতির চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যতে। ভয়, লজ্জা আর অবিশ্বাস নিয়েই সমাজে বেড়ে উঠতে হয় এসব শিশুকে। এখানে একটি কথা পরিষ্কার করা দরকার। যৌন নিপীড়ন শুধু এখন মাদ্রাসার সমস্যা নয়, সমাজের নানা প্রতিষ্ঠানেই এর ভয়াল থাবা ছড়িয়ে পড়েছে। যে প্রতিষ্ঠানে শিশু ঘুমায়, খায় ও বড় হয়, সেখানে নজরদারি ও জবাবদিহি থাকার কথা সবচেয়ে বেশি কিন্তু বাস্তবে ঘটছে উল্টোটা।

তাহলে করণীয় কী? প্রথমত, প্রতিষ্ঠান চালুর আগে নিবন্ধন, অবকাঠামো ও শিক্ষকদের পটভূমি যাচাই বাধ্যতামূলক হোক। দ্বিতীয়ত, আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিশুর জন্য নিরাপদ অভিযোগ ব্যবস্থা থাকুক। তৃতীয়ত, অভিযোগ পেলে পুলিশকে জানানো আবশ্যিক হোক। ঘটনা চেপে গেলে কর্তৃপক্ষকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। সবশেষে অভিভাবকদেরও সন্তানের কথা মন দিয়ে শুনতে হবে এবং আরও সচেতন হতে হবে। বাচ্চাকে মাদরাসায় রাখার আগে উক্ত প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যথাযথ খবরাখবর নিতে হবে, অর্থাৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনে অভিভাবকদের সচেতন ও দক্ষ হতে হবে। শিশু মুখ খোলে তখনই, যখন সে জানে তাকে বিশ্বাস করা হবে, শিশুকে এমন পারিবারিক পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবক যেন শিশু পরিবারের সাথে নির্দ্বিধায় যেকোন সমস্যার কথা শেয়ার করতে পারে। শিক্ষা একটি আমানত। যে প্রতিষ্ঠান সেই আমানতের মান রক্ষা করতে পারে না, তার দরজা খোলা রাখার নৈতিক অধিকার নেই।

মুহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম

শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

লেখক: সাধারণ সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।