খামারিদের প্রশিক্ষণ ও সরকারি নজরদারি।

মোছা সোমনা আক্তার , মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ পাঠ: ২৪ বার

- খামারিদের প্রশিক্ষণ ও সরকারি নজরদারিসোমনা আক্তারবাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান প্রায় ১.৯০ শতাংশ এবং প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে দেশে গবাদি পশুর সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৪৭ লাখ এবং হাঁস-মুরগির সংখ্যা ৩৬ কোটিরও বেশি। গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই খাতের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও মাঠপর্যায়ের নজরদারির অভাবে খামারিরা প্রায়ই বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন। অধিকাংশ প্রান্তিক খামারি এখনো সনাতন পদ্ধতিতে পশু-পাখি পালন করেন। ফলে পশুর সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত হয় না এবং আশানুরূপ উৎপাদন পাওয়া যায় না। এর চেয়েও বড়ো উদ্বেগের বিষয় হলো পশুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা। গবাদি পশুর বিভিন্ন সংক্রামক রোগ— যেমন : ক্ষুর রোগ, পিপিআর কিংবা মুরগির রানীক্ষেত— মোকাবিলায় খামারিদের পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকে না। অনেক সময় সঠিক রোগ নির্ণয় করতে না পেরে যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়, যা প্রাণিজ আমিষের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করছে।পশুর সুস্থতা নিশ্চিত করা কেবল খামারির লাভ-লোকসানের বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত আধুনিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন জরুরি। এসব কর্মশালায় সুষম খাদ্য প্রস্তুত, টিকার সঠিক সময়সূচি এবং উন্নত পালন পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া উচিত। পাশাপাশি বাজারে পশুখাদ্য ও ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণে সরকারি কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। ভেজাল খাদ্যের কারণে অনেক খামারি নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।পরিশেষে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন— দেশব্যাপী আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশিক্ষণ জোরদার করুন এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় করে খামারিদের পাশে দাঁড়ান।লেখক :-সোমনা আক্তারশিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ।মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ।ই-মেইল : –sumonaakter472192@gmail.com
লেখক: সাধারণ সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
